মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

নিজপাট ইউনিয়নের ইতিহাস

প্রচীন জৈন্তায়া রাজ্যের রাজধানী ছিল জৈন্তাপুর উপজেলা সদরের নিজপাট নগরী। খাসিয়া জৈন্তিয়া পবর্তরে পাদদেশে অবস্থিত। নগরের উত্তরে ও পশ্চিমে নয়াগাং পূর্বে নাগরতিছগড়া এবং দক্ষিণে বড়গাং নদী। রাজধানীর চারিদিকে সু-গভীর পরিখা বেষ্ঠিত ছিল। নগরের তিনটি সিংহদ্বার  ছিল। এই দরজা ছাড়া ভেতরে প্রবেশ করার অন্য কোন রাস্তা ছিলনা। প্রতিটি তোরন-এর মূখে প্রহরী ও নগর রক্ষী সৈন্যেও দুর্গ এবং এক জোড়া করে বহৎ কামনা বসানো ছিল। এখনও দুর্গের অংশ বিশেষ সংরক্ষনের জন্য ঢাকা নিয়ে যান। রাজধানী শহরটি এক সময়ে ৫২ হাটি বা গলিতে পৃথক ছিল। বন্দরহাটি,দর্জিহাটি, মোরগাহাটি, নক্তিহাটি, মাহুতহাটি, মাস্তিংহাটি, চৌরিহাটি, চুনাহাটি, তেলীহাটি ধুমাহাটি, চন্দ্রাহাটি, জাঙ্গালহাটি, তোয়াশীহাটি, হাংচুনহাটি, হিন্দু মাহুতহাটি, ময়নাহাটি, খাসিয়াহাটি, পানিয়ারহাটি, পুকরপাড়, উজানীনগর, তাতীপাড়া, খাসনগর, যশপুর, ফেরেঙ্গীটুলা, মজুমদারপাড়া, বাক্ষ্রনপাড়া, রাখালপাড়া, বানিয়াপাড়া, খারীপাড়া, গণকপাড়া,কামারপাড়া, লামাপাড়া, তিলখাইপাড়া, মারপাড়া, মেগলী, বড়খলা ইত্যাদি অনেক নাম ছিল। বর্তমানে মাত্র কয়েকটি হাটি বিদ্যমান রয়েছে।

        রাজবাড়ী সমতল ভূমি থেকে অনেক উপরে একটি টিলার উপরে অবস্থিত ছিল। চারিদিকে প্রাচীর নির্মান করা ছিল। সদর দরজা ছিল দক্ষিন দিকে এই রাস্তা দিয়ে বর্তমান জৈন্তাপুর হাসপাতাল ও ডি,এস মাদ্রাসা রাজবাড়ীতে নির্মান করা হয়েছে। জৈন্তাপুর বাজার ছিল রাজাবাড়ীর উঠান।

        বাসষ্টেশন এলাকায় জৈন্তেশ্বরী মিউজিয়াম বাড়ি, বিশাল চন্ডী মন্ডব। চারিদিকে প্রায় ৮ হাত উচ্চ নান কারুককাজ করা প্রচীর রয়েছে। ভেতরে জৈন্তশ্বরী মন্দীরের কিছুই নেই। এখানে সমতল ও পবর্তের প্রধান প্রথানগর দরবার হলে বসে রাজ্যের যাবতীয় রাজকীয় কা পরিচালনা করতেন। প্রস্তর নির্মিত চৌকি বা আসন ছিল বসার জন্য। দরবার হলের দক্ষিনে ছিল বড় দেউল স্তম্ভ বা উচ্চ ভবন। এই বড় দেউলের উপরে উঠে পুরো নিজপাট নগরী দেখা যেত। বর্তমানে ধংশ বিশেষ রয়েছে। গর্ব করার মত জৈন্তিয়ার যে সব পুরাকীর্তি ছিল সময়ের বিবর্তনে ধংশ হয়ে যাচ্ছে।

        রাজকীয় শাসনামলে জৈন্তিয়ার শিক্ষিত লোক কম ছিল। তবে যারা শিক্ষিত ছিল তাদের কে অনেক সম্মান করা হত। এখানে বাঙ্গালা দুটি গ্রন্থ রয়েছে বলে জানা গেছে, ‘টি রত্নাবলী ও অদ্ভূত ভারত’ শিব, ওঝা রামরায়,মজুমদার,মোহন, রামধর,নামক ব্যাক্তির জৈন্তিয়ার সঙ্গীত রচয়িতা কবি ছিলেন।     

        রাজার আমলে বিভিন্ন স্থানে দেবদেবী সাথাপন ও তা পরিচালনার জন্য ানেক ভূমি দেবেত্তর নামে দেওয়া হয়েছে। বাউভাগ এলাকার মহাপীঠ জৈন্তিয়ার বাঙ্গালী ও খাসিয়ারা সমান ভাবে সম্মান করতেন। সারীঘাটের ঢুপির মটের টিলায় শিব মন্দীর রাজ রামসিংহ স্থাপন করেন। এই দেবতার নামে বাজেরাজ, জৈন্তাপুরীরাজ ও খরিল পরগনার ৪৭৮ বিঘা নিষ্কর ভূমি রয়েছে।


Share with :

Facebook Twitter